প্লাস্টিক পৃথিবীর পরিবেশ ও মানবজাতির স্বাস্থ্যের জন্য ক্রমাগত এক বড় ধরনের বিপদ হয়ে উঠছে। শৈশব থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন রোগ ও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এটি। প্রতিবছর এর মাধ্যমে শুধু স্বাস্থ্যজনিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে অন্তত এক লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত নতুন এক বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনায় এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এই সংকটের মূল হলো প্লাস্টিক উৎপাদনের বিশাল গতি। ১৯৫০ সাল থেকে এর উৎপাদন ২০০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০৬০ সালের মধ্যে তিন গুণ বেড়ে বছরে এক বিলিয়ন টনে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও প্লাস্টিকের অনেক দরকারি ব্যবহার আছে, তবুও সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক। যেমন পানির বোতল ও ফাস্টফুডের প্যাকেট। ফলে দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে আট বিলিয়ন টন প্লাস্টিক পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে আছে– মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া থেকে গভীর সমুদ্রের তলা পর্যন্ত।
বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও বেশি দেশ প্লাস্টিক উৎপাদনে সীমা আরোপের পক্ষে থাকলেও, সৌদি আরবসহ পেট্রোস্টেটগুলো তাতে বিরোধিতা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ, মহামারিবিদ এবং এই প্রতিবেদনের প্রধান লেখক অধ্যাপক ফিলিপ ল্যান্ড্রিগান বলেন, আমরা জানি, প্লাস্টিক দূষণের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব কতটা বিস্তৃত ও গুরুতর।
গর্ভের শিশু, নবজাতক ও ছোট শিশুদের ওপর প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব বেশি পড়ে। প্লাস্টিকের প্রভাবে গর্ভপাত, অপরিণত ও মৃত শিশুর জন্ম, জন্মগত ত্রুটি, ফুসফুসের বিকাশে সমস্যা, প্রজনন ক্ষমতাজনিত সমস্যা এবং শিশু বয়সে ক্যান্সারের মতো জটিলতা হতে পারে। প্লাস্টিক বর্জ্য অনেক সময় ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণায় পরিণত হয়– যা পানি, খাবার ও প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢুকে যায়। মানুষের রক্ত, মস্তিষ্ক, মায়ের বুকের দুধ, গর্ভফুল, শুক্রাণু ও অস্থিমজ্জায় এ ধরনের প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দ্য গার্ডিয়ান।