হাসিনা নেতাকর্মীদের টিস্যুর মতো ব্যবহার করেছে : সারজিস

Share

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, খুনি হাসিনা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের টিস্যুর মতো ব্যবহার করেছে। তাদের বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে গেছে।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে।

এসময় তিনি বলেন, আমাদের একটি লড়াইয়ের আন্দোলনে খুনি হাসিনা ভয়ে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। তার থেকে আমাদের অসংখ্য শিক্ষা নেওয়ার আছে। নিজে পালানোর আগে পরিবারকে সেফট এক্সিট দিয়েছে। অথচ সে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার করে বিপদের মুখে রাস্তাঘাটে ফেলে পালিয়ে গেছে।

সারজিস বলেন, পনেরো-ষোলো বছরে যখন আপনাদের কঠিন সময় ছিল তখন কোনো নেতাকে আপনি পেয়েছেন, আবার কোনো নেতা বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে থেকে কিংবা দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সুবিধা আদায় করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে এমন অনেক নেতাকর্মী ছিল যাদের বিগত ১৬ বছরে খুঁজে পাননি। তারা এখন নতুন করে বিভিন্ন রূপে এই বাংলাদেশে এসেছে। তারা এখন মাথায় হাত বোলাচ্ছে। যাদের আপনাদের কঠিন সময়ে পাশে পাননি। অনুরোধ করি, এখন সুবিধাজনক সময়ে তাদের নেতা হিসেবে মেনে নেওয়ার মতো এই অমানসিকতা দেখাবেন না। যদি দেখান- তাহলে হাসিনা যেভাবে নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে পালিয়েছে- আপনাদের অবস্থাও একই হবে।

সারজিস আরও বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দল এই ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে আসছে। অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক আমাদের রাজপথের সহযোদ্ধা নাহিদ ইসলাম যিনি এই অভ্যুত্থানের ঘোষক, তাকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি যেন পুরো বাংলাদেশকে আবার আমরা সামনের সারিতে থেকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি। সেজন্য আমাদের নাহিদ ইসলাম যেন ওই ক্ষমতার মন্ত্রণালয় ছেড়ে আবারও জনতার কাতারে এসে দাঁড়ান। আমাদের অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৬ বছর যে চর্চাগুলো ছিল আমরা এখন আবার সে চর্চাগুলো নতুন করে দেখতে পারছি। স্পষ্ট কথা যারা এইসব চর্চাগুলো করে এসেছে তাদের রক্তে ওই চর্চা একদম মিশে গিয়েছে। সেই চর্চা থেকে বের হয়ে আসতে তাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে, যারা এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিল। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া মানে কেন্দ্রীয় কয়েকজন না, তারা এই সোনারগাঁসহ সারা দেশের মানুষ। সারা বাংলাদেশে অভ্যুত্থানে যারা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে তারাই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সামনে থাকতে হবে।

জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন মাহমুদের সভাপতিত্বে ও শাকিল সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় এ ক্যাম্পেইনে আরও বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সোনারগাঁয়ের শহীদ মেহেদীর বাবা ছানাউল্লাহ ও শহীদ ইমরানের মা কোহিনূর আক্তার এবং আন্দোলনে নির্যাতিত ছাত্র শাকিল আহমেদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের শত শত শিক্ষার্থী ও নেতারা।

Related Articles

পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের পক্ষে অনড় জামায়াত

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গতকাল সোমবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের...

ঢাবিতে জিন্নাহ ও আল্লামা ইকবালের নামে হল চান ডাকসুর ভিপি প্রার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডাকসু নির্বাচনের ভিপি প্রার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক...

তীব্র গরম বার্ধক্যের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে: গবেষণা

গরম বা হিটওয়েভ শুধু অস্বস্তিই সৃষ্টি করছে না, এটি নীরবে মানুষের বার্ধক্য...

গানই আমার মূল জায়গা, ভালো লাগা থেকে অভিনয় করেছি: তাহসান

তাহসান খান। গায়ক, অভিনেতা ও উপস্থাপক। বন্ধুদের নিয়ে ‘অলটারনেটিভ রক ব্যান্ড’ দিয়ে...