লিডার্স ফোরাম।একটি ফেসবুক গ্রুপ। তবে বাস্তবিক লিডাররাই এই গ্রুপের সদস্য। বেসরকারি, বিশেষকরে কর্পোরেট এবং উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন সেক্টরে(২৩টি সেক্টরে)নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া নন-পলিটিক্যাল মানুষগুলোর মিলনমেলাই বলা চলে এই গ্রুপকে। যার উদ্দেশ্য হলো উন্নত ক্যারিয়ারগড়া, নিজেদের যোগাযোগ বাড়ানো এবং নিজেদেরকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা।তবে এই গ্রুপ কিভাবে এসবের জন্য কাজ করবে? এমনটিই প্রশ্ন ছিল প্রতিষ্ঠানটির ফাউন্ডার খন্দকার কবিরের কাছে?
বলেন, কর্পোরেট দুনিয়ায় বাংলাদেশের হয়ে নেতৃত্ব দেয়া এই মানুষগুলোর সমাহারই একটা গ্রুমিং। যেখানে প্রতিদিনই থাকছে প্রশিক্ষণ মূলক অনলাইন সেমিনার এবং আলোচনা। তবে উদ্দেশ্য প্রায় পূরুনের পথে বলেও জানান মি.কবির। করনার থাবায় যখন সারা দুনিয়া থমকে গেছে, ঠিক সেই সময়েই থমকে যাওয়া মানুষদের পাশে দাড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই গ্রুপটির যাত্রা, ২০২০ সালে।

মূহুর্তেই সাড়া পড়ে যায় কর্পোরেট পাড়ায়। সাথে সাথেই যোগ হলেন কায়সার হামিদ লোভন, যিনি নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন বিডি ফাইনান্সকে। দায়িত্ব পালন করছেন বিডি ফাইনান্সের সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে।এরপর আহ্বানে সাড়া দিয়ে যোগ হলেন, বিশ্ববরেণ্য বাঙ্গালী মহিলা চিহিৎসক ডা.হালিদা হানোম, কমিউনিটি ব্যাংকের সিইও মাশিউল হক চৌধুরী, ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিএমডি খুরশীদ আলম,ওয়াল্টনের হেড অব সেলস সৈয়দ কাহিনুর রাহমান, অর্থ মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব রহিমা বেগম, আকিজ গ্রুপের ডিরেক্টর (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং)খুরশীদ আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপান স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র এসোসিয়েট প্রফেসর সাইফ নোমান খান, এটুআই’র চিফ স্ট্রেটেজিস ফরহাদ জাহিদ শেখ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের ডিরেক্টর তানভীর আযম চৌধুরী, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতেয়াক রেজা, তালাশের উপস্থাপক মুঞ্জুরুল করিমসহ এই সময়ের জনপ্রিয় সব কর্পোরেট লিডাররা।
খন্দকার কবীর নিজেও একজন কর্পোরেট লিডার ও সিনিয়র এসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত একটি বেসরকারী ব্যাংকে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় যুক্ত ছিলেন স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংগঠন বাধন, বিএনসিসি,ডিবেটিং ক্লাবসহ বেশ কিছু অরাজনৈতিক সংগঠনের সাথে।গড়ে তুলেছিলেন বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনও।ঢাকা ইউনিভার্সিটি বগুড়া স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন তার মধ্যে অন্যতম।নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া কর্পোরেট ভূবনের এই বাসিন্দা জানাচ্ছিলেন লিডার্স ফোরামের শুরুর কথা। বলেন, কর্পোরেট লাইফের অভিজ্ঞায় দেখছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যায় থেকে পাশ করা গ্রাজুয়েটরা যখন তাদের ক্যারিয়ার লাইফে প্রবেশ করেন, এই সময় তাদের নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়।একাডেমিক জ্ঞানসমৃদ্ধ হলেও বাস্তবিক দক্ষতায় অনেকটা পিছিয়ে। মনে হলো এইসব তরুনদের একটু গাইডেন্সই তাদের সামনের পথচলা এবং একটা ভালো ক্যারিয়ার গড়তে ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে।সেইসাথে দেশের শিক্ষিত বেকার শ্রেণীকেও ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো যায়। এই চিন্তা থেকেই বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বস্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা শুরু, এমন একটি উদ্যোগের।

সাড়া মেলে ব্যাপক। এইতো শুরু, বলছিলেন খন্দকার কবির। তরুন সমাজের পাশে দাড়ানোর জন্য এগিয়ে এলেন সবাই। যাত্রা শুরু হলো লিডার্স ফোরামের।
এরই মধ্যে হাতে নিয়েছেন বেশ কিছু কার্যক্রমেরও; সারা দেশ থেকে প্রি গ্রাজুয়েট অর্থাৎ আগামী বছর যাদের গ্রাজুয়েশন শেষ হবে তাদের মধ্য থেকে ১’শ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারীতে আয়োজন করতে যাচ্ছেন একটি ক্যারিয়ার ফেয়ার। যাদের মধ্য হতে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে গ্রুমিংয়ের জন্য নির্বাচিত করা হবে। তারা আগামী ১ বছরের জন্য সুযোগ পাবেন দেশ সেরা ৫০ জন কর্পোরেট লিডারের তত্বাবধানে থেকে হাতে কলমে শিক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ।একইভাবে যারা নতুন কর্পোরেট লাইফে প্রবেশ করেছে মাত্র তাদের জন্যও নেয়া হয়েছে নানাবিধ পদক্ষেপ।যা তাদের জব লাইফের কর্মদক্ষতা বাড়াতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে। এছাড়াও বয়স্কদের হাতে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু স্কিমও।
প্রথমবাবের মতো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বিশেষায়িত কর্পোরেট ক্লাবেরও।এই কার্যক্রম আপাতত ঢাকা ভিত্তিক হলেও খুব অচিরেই তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়া হবে দেশব্যাপী, এমন আশাই ব্যাক্ত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা খন্দকার কবির। মি.কবীরের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে বাঙ্গালীর খবর ২৪ ডট কম।